অন্ধকার ঘরের রহস্যময় ফিসফিসানি: মিন্টুর এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার গল্প by Tanmoy Roy
বিকেলের শেষ আলোটা তখন ধীরে ধীরে মাটির সঙ্গে মিশে যাচ্ছিল। পশ্চিম আকাশে কমলা রঙের সূর্যটা আধাআধি ডুবে গেছে। স্কুল মাঠের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা ইউক্যালিপটাস গাছগুলো লম্বা ছায়া ফেলেছে ঘাসের উপর। দূরে কোথাও গরু বাড়ি ফিরছে, আর গ্রামের মসজিদ থেকে ভেসে আসছে মাগরিবের আজান। মিন্টু তখনও ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে হাঁপাচ্ছে। “এই শেষ বল! আউট হলে খেলা শেষ!” — চিৎকার করল রানা। বলটা ছুঁড়ে দিতেই মিন্টু জোরে ব্যাট চালাল। বল সোজা মাঠের পাশের ঝোপে ঢুকে গেল। “চাররর!” — সবাই চিৎকার করে উঠল। তারপর একে একে সবাই বাড়ির দিকে রওনা দিল। মিন্টু ব্যাটটা কাঁধে তুলে নিল। অন্য হাতে স্টাম্পস। হাঁটতে হাঁটতে সে ভাবছিল, “আজকে বাড়ি গিয়ে পড়তে বসতেই হবে। আর দুই মাস পর পরীক্ষা। বাবা এবার সত্যিই রাগ করবে যদি রেজাল্ট খারাপ হয়।” তার বাবা খুব কড়া মানুষ। খেলাধুলা পছন্দ করেন না তা নয়, কিন্তু পড়াশোনার ক্ষতি হলেই সমস্যা। গত পরীক্ষায় মিন্টুর নম্বর একটু কম এসেছিল। তখন থেকেই বাড়িতে চাপ বেড়েছে। স্কুল মাঠ থেকে তাদের বাড়ি যেতে প্রায় পনেরো মিনিট লাগে। গ্রামের রাস্তা। দুপাশে বাঁশঝাড়, পুকুর আর টিনের বাড়ি। দিনের বেলায় রাস্তাটা স্বাভাবিক লাগলেও সন্ধ্যার পর কেমন যেন অন্যরকম হয়ে যায়। হাঁটতে হাঁটতে মিন্টু খেয়াল করল, আজ রাস্তায় মানুষজন খুব কম। হয়তো সবাই বাড়ি ঢুকে গেছে। আকাশও দ্রুত অন্ধকার হয়ে আসছে। রাস্তার মাঝখানে একটা পুরনো বটগাছ পড়ে। গাছটা নিয়ে ছোটবেলা থেকেই নানা গল্প শুনে এসেছে ওরা। কেউ বলে রাতে গাছটার নিচে কারও কান্নার শব্দ শোনা যায়, কেউ বলে সাদা কাপড় পরা মানুষ দেখা যায়। এসব গল্পে মিন্টু বিশ্বাস করত না। তবু সন্ধ্যার পর গাছটার পাশ দিয়ে গেলে তার হাঁটার গতি অজান্তেই একটু বেড়ে যেত। আজও তাই হলো। গাছটার কাছে পৌঁছাতেই হঠাৎ উপর থেকে একটা পাখি ডানা ঝাপটিয়ে উড়ে গেল। মিন্টু চমকে উঠল। “ধুর!” — নিজেই নিজেকে বলল সে। তারপর দ্রুত হাঁটতে লাগল। বাড়ির সামনে এসে সে একটু থামল। তাদের বাড়িটা গ্রামের একেবারে শেষ দিকে। সামনে সরু কাঁচা রাস্তা, পেছনে বাঁশঝাড়। বাড়ির ডানদিকে একটা পুকুর। সাধারণত এই সময় বারান্দার আলো জ্বলে থাকে। তার মা তুলসী গাছের কাছে প্রদীপ দেন। কিন্তু আজ বাড়িটা অদ্ভুত অন্ধকার। মিন্টু ভ্রু কুঁচকাল। বারান্দায় উঠে ব্যাট আর স্টাম্পসগুলো কোণায় রাখল। তারপর টিউবওয়েলের কাছে গিয়ে হাত-মুখ ধুল। জলটা আজ কেমন বরফের মতো ঠান্ডা লাগছিল। মুখ মুছে ঘরের সামনে এসে সে থমকে দাঁড়াল। দরজায় তালা ঝুলছে। “এই সময় তালা?” — অবাক হয়ে বলল সে। তার মা সাধারণত সন্ধ্যার আগেই বাড়ি ফিরে আসেন। হয়তো পাশের বাড়ির কাকিমার কাছে গেছেন — এই ভেবে মিন্টু বারান্দার সিঁড়িতে বসে পড়ল। চারপাশে তখন প্রায় অন্ধকার। ঠিক সেই সময় পুরো এলাকায় কারেন্ট চলে গেল। সবকিছু এক মুহূর্তে নিস্তব্ধ হয়ে গেল। দূরে কোথাও কুকুর ডেকে উঠল। বাঁশঝাড়ের দিক থেকে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ আসছে। বাতাসে কাঁচা মাটির গন্ধ। মিন্টু বিরক্ত হয়ে মশা তাড়াতে লাগল। পাঁচ মিনিট। দশ মিনিট। পনেরো মিনিট। মা এখনও ফিরছে না। সে উঠে দাঁড়াল। ভাবল পাশের বাড়িতে গিয়ে দেখে আসবে। ঠিক তখনই— খুব আস্তে একটা শব্দ তার কানে এল। ফিসফিস… মিন্টু থেমে গেল। সে কান খাড়া করল। আবার। ফিসফিস… যেন কেউ খুব নিচু গলায় কথা বলছে। মিন্টুর বুকের ভেতরটা কেমন শক্ত হয়ে গেল। শব্দটা কোথা থেকে আসছে? সে কয়েক সেকেন্ড স্থির দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে বুঝতে পারল— শব্দটা ঘরের ভেতর থেকে আসছে। তার শরীর দিয়ে ঠান্ডা একটা স্রোত নেমে গেল। “অসম্ভব…” — সে ফিসফিস করে বলল। ঘরে তো তালা মারা। সে ধীরে ধীরে দরজার কাছে গেল। কান লাগাল। ভেতরে সত্যিই যেন কেউ কথা বলছে। খুব আস্তে। শব্দগুলো স্পষ্ট না, শুধু ফিসফিস আওয়াজ। মিন্টুর গলা শুকিয়ে গেল। মুহূর্তের জন্য তার মনে হলো হয়তো চোর ঢুকেছে। কিন্তু কিভাবে? তালা তো বাইরে থেকেই লাগানো। সে দ্রুত ঘরের পেছন দিকে গেল। পেছনে শুধু অন্ধকার আর বাঁশঝাড়। বাতাসে বাঁশ নড়ছে। কেউ নেই। হঠাৎ বাঁশঝাড়ের ভিতর থেকে “খসখস” শব্দ হলো। মিন্টু চমকে পিছিয়ে এল। তারপর নিজেকে সামলে আবার সামনে ফিরে এল। ভেতরের ফিসফিস শব্দটা তখনও চলছে। এবার সত্যিই তার ভয় করতে শুরু করল। সে ভাবল পাশের বাড়ি থেকে কাউকে ডেকে আনবে। কিন্তু ঠিক তখন তার চোখ পড়ল জানালার দিকে। জানালাটা পুরো বন্ধ না। একটু ফাঁক। মিন্টু দ্বিধায় পড়ে গেল। ভেতরে কি সত্যিই কেউ আছে? নাকি সে ভুল শুনছে? তার মনে পড়ল, গত সপ্তাহে পাশের গ্রামে নাকি একটা বাড়িতে চোর ঢুকেছিল। যদি সত্যিই চোর হয়? তাহলে মা ফিরলে বিপদ হতে পারে। এই ভেবেই সে সাহস করে জানালার দিকে এগোল। জানালার সামনে দাঁড়িয়ে সে বুঝল, তার হাত কাঁপছে। সে আস্তে করে জানালার কপাটে হাত দিল। ক্যাঁচ… একটা শব্দ করে জানালাটা একটু খুলল। ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার। কিছুই দেখা যাচ্ছে না। মিন্টু চোখ কুঁচকে ভেতরে তাকাল। ঠিক তখনই— ঘরের ভিতর যেন কিছু একটা নড়ে উঠল। একটা কালো ছায়া। খুব দ্রুত। তারপর হঠাৎ— “ভাঁউ!” একটা বিকট শব্দ করে কিছু একটা তার মুখের সামনে দিয়ে বেরিয়ে এল। মিন্টু ভয়ে পিছিয়ে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলল। ধপ করে বারান্দায় পড়ে মাথায় আঘাত লাগল। তারপর সব অন্ধকার। … “মিন্টু! এই মিন্টু!” কানে ভেসে এল তার মায়ের গলা। সে ধীরে ধীরে চোখ খুলল। বারান্দার আলো জ্বলছে। কারেন্ট এসেছে। তার মা তার পাশে বসে আছে। “এইখানে পড়ে ছিলি কেন?” — মা উদ্বিগ্ন গলায় বললেন। মিন্টু উঠে বসে হাঁপাতে লাগল। “মা… ঘরে কেউ ছিল…” “কি?” “আমি আওয়াজ শুনেছি। তারপর জানালা খুলতেই কিছু একটা বেরিয়ে এল!” তার মা অবাক হয়ে তাকালেন। “তুই ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখেছিস নাকি?” “না মা! সত্যি!” তার মা দরজার তালা দেখালেন। “দেখ, তালা ঠিকই আছে।” মিন্টু চুপ করে গেল। কিন্তু সে জানত, সে স্বপ্ন দেখেনি। সেদিন রাতে খাওয়ার সময়ও সে অস্বাভাবিক চুপচাপ ছিল। তার বাবা জিজ্ঞেস করলেন, “কি হয়েছে?” মিন্টু সব বলল। শুনে তার বাবা হেসে উঠলেন। “বাদুড় হবে।” “বাদুড়?” “হ্যাঁ। অন্ধকার ঘরে ঢুকে ছিল। তুই জানালা খুলতেই উড়ে বেরিয়ে এসেছে। ভয় পেয়ে পড়ে গেছিস।” মিন্টু কিছু বলল না। ব্যাখ্যাটা যুক্তিযুক্ত। তবু… ভেতরের ফিসফিস শব্দ? সেটা কি? রাতে বিছানায় শুয়েও তার মাথায় একই প্রশ্ন ঘুরছিল। বাইরে তখন বৃষ্টি শুরু হয়েছে। টিনের চালে টুপটাপ শব্দ পড়ছে। ঘড়িতে প্রায় সাড়ে বারোটা। হঠাৎ— খুট। মিন্টুর চোখ খুলে গেল। আবার। খুট… খুট… শব্দটা পাশের ঘর থেকে আসছে। সে উঠে বসল। বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে। বৃষ্টি থেমে গেছে। চারপাশ নিস্তব্ধ। আবার সেই শব্দ। তারপর— ফিসফিস… মিন্টুর বুক ধড়ফড় করতে লাগল। সে ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নামল। পাশের ঘরের দরজাটা আধখোলা। অন্ধকার। কিন্তু মনে হচ্ছে কেউ যেন ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে। মিন্টুর গলা শুকিয়ে গেল। সে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল। হঠাৎ অন্ধকারের মধ্যে দুটো ছোট আলো জ্বলে উঠল। চোখের মতো। মিন্টু জমে গেল। তারপর জিনিসটা নড়ল। আর সঙ্গে সঙ্গে “মিঁয়াও” শব্দ করে একটা কালো বিড়াল লাফ দিয়ে বেরিয়ে দৌড়ে পালাল। মিন্টু হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। ঠিক তখনই তার চোখ পড়ল মেঝেতে। দরজার কাছে কাদামাখা ভেজা পায়ের ছাপ। সে থেমে গেল। ছাপগুলো মানুষের। ভেজা কাদা লেগে আছে। আর সেই পায়ের ছাপগুলো এসেছে— জানালার দিক থেকে। মিন্টুর বুকের ভেতর ঠান্ডা হয়ে গেল। কারণ সন্ধ্যায় সে নিজে জানালার সামনে দাঁড়িয়েছিল। তখন সেখানে কোনো পায়ের ছাপ ছিল না। সে ধীরে ধীরে ঘরের ভিতর তাকাল। অন্ধকার। নিঃশব্দ। কিন্তু ঘরের এক কোণে যেন কেউ দাঁড়িয়ে তাকে দেখছে— এমন একটা অনুভূতি হচ্ছিল। পরদিন সকালে সবাইকে পায়ের ছাপের কথা বলা হলো। তার বাবা বললেন, “চোর ঢুকেছিল হয়তো।” কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, ঘর থেকে কিছু চুরি যায়নি। আরও অদ্ভুত ব্যাপার— পায়ের ছাপগুলো ঘরের ভেতরে ঢুকেছে, কিন্তু বের হওয়ার কোনো ছাপ নেই। তারপর কয়েকদিন সব স্বাভাবিক ছিল। মিন্টুও ধীরে ধীরে ঘটনাটা ভুলতে শুরু করেছিল। কিন্তু এক সপ্তাহ পরে… এক সন্ধ্যায় সে আবার ক্রিকেট খেলে বাড়ি ফিরছিল। রাস্তার সেই পুরনো বটগাছটার কাছে এসে সে থেমে গেল। গাছটার নিচে কেউ দাঁড়িয়ে আছে। অন্ধকারে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। একজন লম্বা মানুষ। স্থির দাঁড়িয়ে। মিন্টু তাকিয়ে থাকতেই লোকটা ধীরে ধীরে বাঁশঝাড়ের দিকে হাঁটতে লাগল। তার হাঁটার ভঙ্গিটা অদ্ভুত। একটু খুঁড়িয়ে হাঁটছে। মিন্টুর হঠাৎ মনে পড়ল— ঘরের ভেতরের কাদামাখা পায়ের ছাপগুলোর মধ্যে একটা ছাপও ঠিক এমন বেঁকে ছিল। তার বুকের ভেতর ধক করে উঠল। সে ভয়ে দ্রুত বাড়ির দিকে হাঁটতে লাগল। পেছনে তাকানোর সাহস হলো না। সেদিন রাতে ঘুমানোর আগে মিন্টু বারান্দায় রাখা নিজের ব্যাটটা আনতে গিয়েছিল। ব্যাটটা হাতে নেওয়ার সময় হঠাৎ তার চোখ পড়ল মেঝের দিকে। স্টাম্পসের পাশে ভেজা কাদার দাগ। একটা পায়ের ছাপ। তারপর আরেকটা। মিন্টুর বুক ধক করে উঠল। সে নিচু হয়ে ভালো করে দেখল। ছাপগুলো মানুষেরই। আর সেগুলো বারান্দা থেকে সোজা ঘরের জানালার দিকে গেছে। কিছুক্ষণ সে চুপ করে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর দ্রুত ভিতরে গিয়ে বাবাকে ডাকল। প্রথমে তার বাবা ব্যাপারটা গুরুত্ব দেননি। কিন্তু টর্চের আলো ফেলে দাগগুলো দেখার পর তিনিও চুপ হয়ে গেলেন। “এগুলো তো নতুন দাগ…” — নিচু গলায় বললেন তিনি। মিন্টুর মা একটু ভয় পেয়ে গেলেন। “তাহলে সত্যিই কেউ এসেছিল নাকি?” তার বাবা কিছু না বলে বাড়ির পেছনের দিকে গেলেন। মিন্টুও টর্চ হাতে পিছনে পিছনে গেল। বাড়ির পেছনে বৃষ্টির জন্য মাটি নরম হয়ে ছিল। সেখানে আরও পরিষ্কার পায়ের ছাপ দেখা গেল। কেউ বাঁশঝাড়ের ভিতর দিয়ে আসা-যাওয়া করেছে। মিন্টুর বাবা এবার পাশের বাড়ির রহিম কাকুকে ডাকলেন। আরও দু-একজন প্রতিবেশী এলেন। সবাই মিলে টর্চ নিয়ে বাঁশঝাড়ের ভিতর ঢুকলেন। খুব বেশি দূর যেতে হলো না। একটা ভাঙা টিনের চালার নিচে কেউ শুয়ে ছিল। টর্চের আলো পড়তেই লোকটা হকচকিয়ে উঠে বসে পড়ল। রোগা চেহারা। এলোমেলো চুল। গায়ে পুরোনো ময়লা শার্ট। লোকটাকে দেখে রহিম কাকু বললেন, “আরে, এই লোকটাকে তো বাজারের পাশে কয়েকদিন ধরে ঘুরতে দেখছি।” লোকটা প্রথমে পালাতে চাইছিল। পরে সবাই মিলে ধরে শান্ত করলে ধীরে ধীরে কথা বলতে শুরু করল। জানা গেল, সে পাশের জেলার মানুষ। কয়েক মাস আগে কাজের জন্য এখানে এসেছিল। তারপর কাজ হারিয়ে ফেলে। থাকার জায়গা না থাকায় এদিক-ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছিল। রাতে ফাঁকা জায়গা পেলেই লুকিয়ে থাকত। সেদিন সন্ধ্যায় বৃষ্টি নামার আগে সে মিন্টুদের বাড়ির পেছনে এসে বসেছিল। তখনই দেখে বাড়িতে তালা মারা। জানালাটা পুরো বন্ধ ছিল না। তাই সে ভিতরে ঢুকে কিছু খাবার আছে কিনা খুঁজছিল। ঠিক তখনই মিন্টু বাড়ি ফিরে আসে। ভয়ে সে ঘরের ভিতরেই চুপ করে লুকিয়ে পড়ে। নিজের সাথে বিড়বিড় করছিল বলেই মিন্টু ফিসফিস শব্দ শুনেছিল। আর জানালা খুলতেই লোকটা হঠাৎ বেরিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। অন্ধকারে সব এত দ্রুত হয়েছিল যে মিন্টুর কাছে সেটা একটা ছায়ার মতো মনে হয়েছিল। ধাক্কা লেগেই সে পড়ে যায়। সব কথা শোনার পর চারপাশ একদম চুপ হয়ে গেল। মিন্টু স্থির দাঁড়িয়ে রইল। তার মনে পড়ল, সন্ধ্যায় সত্যিই সে পরিষ্কার কিছু দেখেনি। শুধু একটা ছায়া, একটা ধাক্কা, আর নিজের ভয়। রহিম কাকু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “ক্ষুধার চেয়ে বড় ভয় আর কিছু নেই রে।” লোকটাকে পরে গ্রামের কয়েকজন মিলে খেতে দিলেন। পরদিন স্থানীয় এক দোকানদারের কাছে কাজের ব্যবস্থাও করে দেওয়া হলো। সেদিন রাতে মিন্টু আবার বারান্দায় এসে দাঁড়াল। বাঁশঝাড়ে বাতাস লাগছে। দূরে কুকুর ডাকছে। সব আগের মতোই। কিন্তু আজ আর তার ভয় লাগছিল না। কারণ আজ সে বুঝেছে, অন্ধকার সবসময় ভয়ের না। কখনও কখনও অন্ধকারের ভিতরে শুধু একজন হারিয়ে যাওয়া মানুষও লুকিয়ে থাকতে পারে।
📢 পাঠকদের উদ্দেশ্যে
গল্পটি পড়ে আপনার কেমন লাগল, তা অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আপনার মতামত, পরামর্শ এবং সমালোচনা আমাদের আরও ভালো গল্প উপহার দিতে অনুপ্রাণিত করে। গল্পটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন, যাতে আরও বাংলা গল্পপ্রেমীরা এটি পড়ার সুযোগ পান। আপনার একটি শেয়ার এবং একটি মন্তব্য আমাদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা। ❤️
Tanmoy Roy
Bengali Author • Storyteller • Founder &
AUTHOR TANMOY ROYTanmoy Roy is a Bengali author, storyteller. He writes original Bengali fiction and novels as well as english novels across mystery, thriller, horror, adventure and emotional drama. His stories focus on suspense, realism, emotion and memorable characters, creating immersive reading experiences for Bengali as well as English readers worldwide.
Mystery • Thriller • Horror • Adventure • Emotional Drama • Bengali & English Fiction
© Tanmoy Roy | Bengali and English Mystery, Thriller, Horror & Original Fiction