শেষ বিকেলের দীর্ঘশ্বাস | একটি আবেগঘন ছোট গল্প - Tanmoy Roy


অর্ক ঘুম থেকে উঠল জানালার ফাঁক দিয়ে আসা নরম রোদের স্পর্শে। প্রতিদিনের মতো আজও সে উঠে জানালার কাছে এসে দাঁড়াল। পাশের বাড়ির বারান্দায় রাখা টবের গাছগুলো বাতাসে দুলছে, কিন্তু অর্কর চোখ আটকে ছিল নীলিমার বারান্দায়। সে অপেক্ষা করছিল— নীলিমা আসবে, হাতে মগ নিয়ে গাছে জল দেবে, কিংবা স্কুল ড্রেস পরে ব্যস্ততায় বেরিয়ে যাবে। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই ছিল অর্কর দিনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। নীলিমা ছিল অর্কর পাশের বাড়ির মেয়ে। শৈশব থেকে কৈশোর—একই স্কুল, টিউশন, এমনকি টিফিনের ভাগাভাগিও ছিল তাদের। পাড়ার ফুটবল খেলা কিংবা টিউশন ফাঁকি দিয়ে বৃষ্টিতে ভেজা—সব স্মৃতিতেই নীলিমা ছিল অর্কর ছায়াসঙ্গী। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে অর্কর মনের বন্ধুত্বের জায়গাটা অন্যরকম কিছু একটা দখল করতে শুরু করল। যেদিন বৃষ্টির বিকেলে দোকানের ছাউনির নিচে দাঁড়িয়ে নীলিমার ভেজা চুলের জল পড়তে দেখেছিল, সেদিনই সে বুঝেছিল—সে নীলিমাকে ভালোবেসে ফেলেছে। কিন্তু অর্ক ছিল ভীষণ লাজুক। সাহস করে কোনোদিন বলা হয়ে ওঠেনি। বন্ধুরা টিজ করত, বলত, "গাধা, এভাবে বসে থাকলে নীলিমাকে অন্য কেউ নিয়ে যাবে।" অর্ক শুধু হাসত, কিন্তু মনে মনে একটা অদ্ভুত ভয় কাজ করত। সে ভাবত, কলেজের পাট চুকলে কোনো একদিন নীলিমাকে সবটা বলবে। হঠাৎ করেই একদিন নীলিমা স্কুলে আসা বন্ধ করে দিল। তিনদিন পর অর্ক জানতে পারল, নীলিমার বাবার বদলি হয়েছে অন্য রাজ্যে, তারা স্থায়ীভাবে সেখানেই চলে যাচ্ছে। খবরটা শোনার পর অর্কর পৃথিবী যেন থমকে গেল। সেদিনই সে ছুটল স্টেশনে। ট্রেনের ভিড়ে নীলিমাকে খুঁজছিল সে, কিন্তু ট্রেন ছেড়ে দিল। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে নীলিমাকে হারিয়ে ফেলার সেই তীব্র হাহাকার অর্কর মনে গভীর দাগ কেটে গেল। দশ বছর পর। অর্ক এখন সফল এক আর্কিটেক্ট। কিন্তু সেই পুরনো স্মৃতি আজও তাকে তাড়া করে। কাজের সূত্রে এক শহরে গিয়ে শপিং মলের ফুড কোর্টে হঠাৎ অর্কর চোখ আটকে গেল এক নারীর ওপর। সেই চোখ, সেই চাউনি—দশ বছর পরেও যেন কোনো পরিবর্তন হয়নি। এ যে নীলিমা! দশ বছর পর দেখা। কথা হলো, আড্ডা হলো। নীলিমা জানাল, সে মাত্র কয়েকদিনের জন্য শহরে এসেছে। অর্ক ঠিক করল, এবার আর কোনো ভুল করবে না। ভ্যালেন্টাইনস ডে-র দিন সে নীলিমাকে নিয়ে বেরোল। সারাদিন কাটল অদ্ভুত আনন্দে। নীলিমা হাসতে হাসতে বলল, "আমি জানতাম তুমি একসময় বলবে, কিন্তু আমাদের ভাগ্য বোধহয় অন্য কিছু লিখে রেখেছিল।" বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। সিনেমা দেখে ফেরার পথে নীলিমা আবদার করল রাস্তার ধারের ফুচকা খাওয়ার। অর্ক ফুচকা কিনতে গেল, আর নীলিমা রাস্তা পার হতে গেল। চোখের পলকে এক বেপরোয়া গতির গাড়ি নীলিমাকে ধাক্কা দিয়ে চলে গেল। হাসপাতালের করিডোরে নয়, রাস্তার অন্ধকারেই সব শেষ হয়ে গিয়েছিল। নীলিমা নিস্তেজ হওয়ার আগে শুধু বলেছিল, "ভালোবাসি..." আজ অনেক বছর কেটে গেছে। অর্ক সফল, অর্ক ধনাঢ্য। কিন্তু তার আলমারির একটা ড্রয়ারে আজও একটা পুরনো ছবি পড়ে থাকে—স্কুল ইউনিফর্ম পরা দুই কিশোর-কিশোরীর ছবি। ছবিটার কোণ ছেঁড়া, কিন্তু অর্কর কাছে ওটাই পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। কিছু মানুষ জীবনে থেকে যায় না, কিন্তু হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকে এক করুণ দীর্ঘশ্বাস হয়ে।

📢 পাঠকদের উদ্দেশ্যে

গল্পটি পড়ে আপনার কেমন লাগল, তা অবশ্যই নিচের কমেন্ট বক্সে জানাবেন। আপনার মতামত, পরামর্শ এবং সমালোচনা আমাদের আরও ভালো গল্প উপহার দিতে অনুপ্রাণিত করে। গল্পটি ভালো লেগে থাকলে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে শেয়ার করুন, যাতে আরও বাংলা গল্পপ্রেমীরা এটি পড়ার সুযোগ পান। আপনার একটি শেয়ার এবং একটি মন্তব্য আমাদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা। ❤️


``` Tanmoy Roy

Tanmoy Roy

Bengali Author • Storyteller • Founder &

AUTHOR TANMOY ROY
```

Tanmoy Roy is a Bengali author, storyteller. He writes original Bengali fiction and novels as well as english novels across mystery, thriller, horror, adventure and emotional drama. His stories focus on suspense, realism, emotion and memorable characters, creating immersive reading experiences for Bengali as well as English readers worldwide.

📚 Genres:
Mystery • Thriller • Horror • Adventure • Emotional Drama • Bengali & English Fiction
Connect With The Author 👇

© Tanmoy Roy | Bengali and English Mystery, Thriller, Horror & Original Fiction