Posts

ধনী কে, গরিবই বা কে? — টাকার বাইরে জীবনের আসল হিসাব

  আমরা প্রায়ই একটা কথা শুনে থাকি — “গরিবের বাড়িতে এসেছো, ভালো-মন্দ খেয়ে যেও।” অথবা, “গরিবের বাড়ি যাবে, দুটো ডাল-ভাত খেয়ে আসবে।” কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, সেই “গরিবের বাড়ি” গিয়ে দেখা যায় বড় বড় মাছের পিস, পাঁঠার মাংস, পাঁচ রকম ভাজা, মিষ্টি—সবকিছুর আয়োজন করা হয়েছে। তখন মনে প্রশ্ন জাগে— এরা যদি গরিব হয়, তাহলে সত্যিকারের গরিব কাকে বলে? আসলে “গরিব” আর “ধনী” শব্দ দুটো আমরা এত সহজভাবে ব্যবহার করি যে, কখনো গভীরভাবে ভেবে দেখি না এই শব্দগুলোর আসল মানে কী। সমাজ আমাদের শিখিয়েছে— যার কাছে টাকা কম, সে গরিব। আর যার কাছে টাকা বেশি, সে ধনী। কিন্তু সত্যিই কি বিষয়টা এতটা সহজ? আজকের পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে যদি কাউকে প্রশ্ন করা হয়— “ঠিক কত টাকা থাকলে একজন মানুষকে ধনী বলা যাবে?” তাহলে হয়তো কেউই সঠিক উত্তর দিতে পারবে না। কারণ ধনী বা গরিব হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট অঙ্ক নেই। কারো কাছে ১০ হাজার টাকাই অনেক বড় ব্যাপার, আবার কারো কাছে ১০ লাখ টাকাও খুব সামান্য। টাকার পরিমাণ নয়, মানুষের চাহিদাই ঠিক করে দেয় সে ধনী না গরিব আমাদের সমাজে একটা অদ্ভুত প্রতিযোগিতা চলছে। সবাই আরও বেশি চায়। আরও টাকা, আরও বড় বা...

Rat race-র শহরে হারিয়ে যাওয়া মানবতা

  সন্ধ্যাটা তখন ধীরে ধীরে শহরের উপর নেমে আসছিল। আকাশে দিনের শেষ আলোটুকু মিশে যাচ্ছিল ধূসর রঙের সঙ্গে। রাস্তার ধারে দোকানগুলোর লাইট একে একে জ্বলে উঠছিল। কোথাও চায়ের দোকানে ভিড়, কোথাও অফিস শেষ করে বাড়ি ফেরা মানুষের তাড়াহুড়ো। হর্নের শব্দ, ব্যস্ত রাস্তা আর মানুষের ছুটে চলা— সব মিলিয়ে শহরটা যেন নিজের গতিতে দৌড়াচ্ছিল। আমিও বেরিয়েছিলাম কাজের জন্য। ডাক্তারের চেম্বারে যাওয়ার তাড়া ছিল। মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভের কাজটাই এমন— সময়ের সাথে প্রতিদিন যুদ্ধ করতে হয়। কোন ডাক্তার কখন বসবেন, কখন রোগীর ভিড় বেড়ে যাবে, কখন দেখা করার সুযোগ মিলবে— সব হিসেব করে চলতে হয়। একটু দেরি মানেই পুরো দিনের প্ল্যান নষ্ট। সেদিনও মাথার ভিতরে শুধু সময়ের হিসেব চলছিল। বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছিলাম। মনে হচ্ছিল, যদি আর একটু দেরি হয় তাহলে হয়তো ডাক্তারের সাথে আর দেখা হবে না। বাইক চালিয়ে দ্রুত এগোচ্ছিলাম। হঠাৎ রাস্তার একটা মোড়ের কাছে পৌঁছাতেই চোখের সামনে ঘটনাটা ঘটল। একটা ছেলে বাইক নিয়ে টার্ন নিতে গিয়ে হঠাৎ ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় পড়ে গেল। ঘটনাটা এত দ্রুত ঘটেছিল যে প্রথম কয়েক সেকেন্ড আমি বোঝারই চেষ্টা করছ...

মাধ্যমিক পরীক্ষার টেনশন – Class 10 এর বাস্তব অভিজ্ঞতার গল্প | Bengali Student Life Story full of exam stress, family expectations, society expectations

  ‘পরীক্ষা’ — শব্দটা শুনলেই আজও অনেক ছাত্রছাত্রীর বুক ধড়ফড় করতে শুরু করে। ছোটোবেলায় যখন প্রথম স্কুলে ভর্তি হই, তখন পরীক্ষার মানে ছিল কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর লেখা আর তারপর ছুটি। কিন্তু ক্লাস যত বাড়তে থাকে, পরীক্ষার ভয়টাও তত বড় হতে থাকে। আর সেই ভয়ের চূড়ান্ত রূপটা প্রথমবার দেখা যায় মাধ্যমিক পরীক্ষার সময়। আমি আজও ভুলতে পারি না, যখন আমি ক্লাস ১০-এ পড়তাম, তখন পুরো একটা বছর যেন শুধুই “মাধ্যমিক” শব্দটার ভিতর দিয়ে কেটেছিল। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত — সবকিছুর মাঝখানে শুধু একটা কথাই ঘুরত, “মাধ্যমিক”। সত্যি বলতে, তখন মনে হতো এই পরীক্ষাটাই যেন জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। ক্লাস ১০-এ ওঠার পর প্রথম কয়েকদিন খুব ভালো লাগছিল। নতুন বই, নতুন খাতা, নতুন ক্লাস — সবকিছুতেই একটা আলাদা excitement ছিল। কিন্তু সেই excitement খুব বেশিদিন টিকল না। কারণ কয়েকদিন যেতেই চারপাশ থেকে একটাই কথা শুনতে শুরু করলাম — “এবার কিন্তু মাধ্যমিক।” “এবার আর খেলাধুলো নয়।” “এই এক বছর মন দিয়ে পড়তে হবে।” “মাধ্যমিকের রেজাল্টটাই ভবিষ্যৎ ঠিক করবে।” শুরুতে এসব কথা শুনে খুব একটা গুরুত্ব দিতা...

স্বপ্ন কখনও মরে না, তারা শুধু সময়ের অপেক্ষা করে

Image
 রাত তখন প্রায় বারোটা। বাড়ির সব আলো অনেক আগেই নিভে গেছে। চারদিকে এমন নীরবতা, যেন সময় নিজেও একটু থেমে বিশ্রাম নিচ্ছে। শুধু আমার ঘরের দরজার নিচ দিয়ে একফালি নীলচে আলো বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে। Laptop-এর Screen-এ খোলা একটা পুরোনো Website। অনেক বছর আগে নিজের হাতে বানানো। Cursor-টা স্থির হয়ে আছে একটা Story-র ওপর। গল্পটার নাম দেখেই অদ্ভুত একটা হাসি চলে এল মুখে। হাসিটা আনন্দের নয়—বরং অনেক পুরোনো একটা স্মৃতিকে বিদায় জানানোর। Mouse-এর ওপর আঙুলটা রেখে অনেকক্ষণ বসে রইলাম। তারপর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে Delete Button-এ Click করলাম। একটা Story হারিয়ে গেল। আরেকটা। তারপর আরও একটা। Screen থেকে একের পর এক গল্প মুছে যেতে লাগল। অথচ আশ্চর্যের বিষয়, বুকের ভেতরটা ক্রমশ ভারী হয়ে উঠছিল। এই গল্পগুলো খারাপ ছিল না। কিন্তু এগুলো লিখেছিল এমন এক ছেলে, যে তখনও পৃথিবীকে চিনতে শেখেনি। যার কাছে জীবন মানেই ছিল রঙিন স্বপ্ন, অসম্ভবকে সম্ভব ভাবার সাহস, আর অদম্য কল্পনা। আজ এত বছর পরে সেই ছেলেটার সঙ্গে আমার আর খুব একটা মিল নেই। জীবন আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। কিছু স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। আবার কিছু নতুন স্...

আমার কালি - TANMOY ROY

বাড়িতে কোনো পোষা প্রাণী থাকলে একসময় তারা যে পরিবারের একজন হয়ে যায়, এই কথাটা আগে অনেকবার শুনেছিলাম। কিন্তু সেই কথার গভীরতা কখনো সত্যি করে অনুভব করিনি। যতদিন না পর্যন্ত আমার জীবনে এসেছিল একটা ছোট্ট কালো বিড়াল। কালি। একটা ছোট্ট প্রাণী, যার শরীর জুড়ে ছিল কুচকুচে কালো রং। যার মুখে ছিল না কোনো ভাষা, যার হাতে ছিল না কাউকে ধরে রাখার ক্ষমতা। তবুও অদ্ভুতভাবে সে আমার জীবনের এমন একটা জায়গা দখল করে নিয়েছিল, যেটা আজও খালি হয়ে আছে। আজও সন্ধ্যার সময় যখন বাড়ির উঠোনে হালকা বাতাস বয়ে যায়, যখন দূর থেকে কোনো স্কুটির শব্দ ভেসে আসে, তখন অজান্তেই আমার মন কয়েক মুহূর্তের জন্য থেমে যায়। মনে হয়— “কালি কি আবার দৌড়ে আসছে?” হয়তো একটু পরেই উঠোনের কোণ থেকে ওর ছোট ছোট পায়ের শব্দ শোনা যাবে। লেজটা উঁচু করে, চোখে সেই চেনা আনন্দ নিয়ে ও ছুটে আসবে আমার দিকে। কিন্তু পরের মুহূর্তেই বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়— কালি আর নেই। প্রায় দু’বছর আগে আমাদের পাশের বাড়িতে একটা কালো বিড়ালের জন্ম হয়েছিল। জন্মের পর থেকেই ওর শরীর ছিল একদম অন্যরকম। চারপাশে অনেক রঙের বিড়াল দেখা গেলেও, ও ছিল সম্পূর্ণ কালো। যেন রাতের অন্ধকার থেকে কেউ একটা ছোট্ট প্রা...